সংবাদ ব্রিফিং

তেল খালাসে সাগরের তলদেশে পাইপলাইন হচ্ছে






oil-sea
সাগর ও মাটির তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল স্থানান্তরে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ব্যুরোর সঙ্গে চুক্তি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আজ বৃহস্পতিবার এ চুক্তি হবে।

বিপিসি সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা পর্যন্ত ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি পাইপলাইন স্থাপিত হবে। যার মধ্যে ৬৪ কিলোমিটার থাকবে সাগরের তলদেশে আর ৩০ কিলোমিটার থাকবে উপকূলঘেঁষা মাটির নিচে।

এর বাইরে মাতারবাড়ি ট্যাংক ফার্ম থেকে গভীর সাগরের জাহাজ ভেড়ার স্থান পর্যন্ত আলাদাভাবে আরও ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে; যার মধ্যে ৯ কিলোমিটার সাগরের ও ৭ কিলোমিটার থাকবে মাটির তলদেশে। এসব পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হলে তাতে বছরে বিপিসির খরচ বাঁচবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিপিসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আজ ঢাকার একটি তারকা হোটেলে এ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৪২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিপিসি জোগান দেবে ১১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বাকি টাকা ঋণ হিসেবে জোগান দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। গত নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাত বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন ছাড়াও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ৫০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ক্রুড অয়েল ট্যাংক, ৩০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার তিনটি ডিজেল স্টোরেজ ট্যাংক, পাম্পিং স্টেশন স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইপলাইন স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়িত বিপিসির এক হাজার কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেল খালাসে ভোগান্তি ও সময় কমবে।’
বিপিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির নাম ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন’। এসব পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব পাইপলাইন দিয়ে বছরে ৪৫ লাখ করে মোট ৯০ লাখ টন জ্বালানি তেল খালাস সম্ভব হবে। একটি পাইপলাইন দিয়ে কেবল ডিজেল খালাস হবে। এই পাইপলাইন পতেঙ্গায় অবস্থিত জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার প্রধান ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আর অন্য পাইপলাইন দিয়ে কেবল ক্রুড (অপরিশোধিত জ্বালানি) খালাস হবে। ক্রুডের পাইপলাইন যুক্ত থাকবে সরকারি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সঙ্গে। ইস্টার্ন রিফাইনারির অবস্থানও চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়।
বিপিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে বছরে ৫০ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে এক লাখ মেট্রিক টনের একটি জাহাজ বহির্নোঙরে আসার পর ছোট জাহাজ দিয়ে সেই জ্বালানি খালাস করতে ৯-১০ দিন সময় লাগে। এতে জাহাজগুলোকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে তেল খালাসের সময় কমে দুই দিনে নেমে আসবে।

বিপিসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানের সময় বেড়ে যাওয়ায় এবং লাইটার জাহাজের ভাড়া মিলে প্রতি মেট্রিক টন জ্বালানি খালাসে খরচ পড়ে ২৫ ডলার (দুই হাজার টাকা)। পাইপলাইন স্থাপন শেষ হলে জাহাজের গড় অবস্থান এক-পঞ্চমাংশে নেমে আসবে। এতে বছরে খরচ বাঁচবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।