সংবাদ ব্রিফিং

লাখ লাখ মানুষের স্বতস্ফুর্ত সমাবেশ দেখে আতঙ্কিত আ’লীগ, হতাশ বাহিনীরা






লাখ লাখ মানুষের স্বতস্ফুর্ত সমাবেশ দেখে আতঙ্কিত আ’লীগ, হতাশ বাহিনীরা!
:::::::PicsArt_10-19-09.10.28

হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। গ্রেফতার আশংকা সহ নানাবিধ অনিশ্চয়তা স্বত্তেও মাত্র তিন দিনের নোটিশে তাদের নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ নেতা কর্মী বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে যে অভাবণীয় কান্ডের জন্ম দিয়েছে, তাতে চারিদেকে ব্যাপক চ্যাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেছে। শাসক দল আওয়ামীলীতে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারন কয়েকদিন আগে তাদের নেত্রীর অভ্যর্থনাতে এর এক চতুর্থাংশও জনসমাগম হয়নি। তারা ভেবেই পাচ্ছে না- গত ৯ বছরের অত্যাচার খুন গুমে এদের দমন করার পরেও অন্তত দশ লাখ লোকের এই সমাবেশ হলো কি করে!20171019_150628

অন্যদিকে, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি হিসাবে মিলাতে পারছে না- এমন কান্ড ঘটলো কি করে? বাধা দেয়া হবে না মুখে বললেও এই কর্মসূচি যাতে সফল না হয়, সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। ঘটনার দিন বিমানবন্দর সড়কে গণপরবহন বন্ধ করে দেয় সরকার, যাতে লোক সমাগম না হয়। আগেরদিন থেকে ঢাকার চারিদিকের জেলাগুলি থেকে রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এতদসত্বেও নানা ভাবে কষ্টক্লেশ সহ্য করে দূর দূরান্ত থেকে ভেঙে ভেঙে বো পায়ে হেটে আসা লাখ লাখ নেতাকর্মীরা দুপুরের পর থেকে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন। আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অনেক জায়গায় গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশের বাধা এড়াতে নানা কৌশলে তারা বিমানবন্দরে আসেন। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পথচারীদের মতো বিমানবন্দরে আসেন। পুরনো ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আশপাশের নেতাকর্মীরা কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছেন। বিকেল ৪টার পর গোটা বিমানবন্দর এলাকাসহ আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে। এর সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ জনতা ও মহিলারাও। সাড়ে ৪টার দিকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার পাশে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনকে এক নজর দেখতে সাধারণ জনতাও অংশ নেন বিএনপির এ অভ্যর্থনায়। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর বিমানবন্দর মোড় ঘুরার পরই নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়ে। বেগম খালেদা জিয়ার বহনকারী গাড়িটি নেতাকর্মীরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন। গাড়িবহরের সামনে কয়েক’শ মোটরসাইকেল নিয়ে স্কট দেন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। গাড়িবহরের সামনে-পেছনে জনতার ঢল নামে। ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত লাখ লাখ নেতাকর্মী বেগম খালেদা জিয়াকে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দু’দিন ধরে সরকারী সবগুলি গোয়েন্দা সংস্থা নিজেদের মধ্যে মিটিং করে লোকসমাগম কমানোর লক্ষে নানা ফন্দি চালাতে থাকে। কিন্তু জনস্রোতে উড়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। রাত থেতেই তারা মারাত্মক হতাশ হয়ে পড়ে। বন্ধু বান্ধবদের সাথে আলাপচারিতায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে শোনা যায়।

গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিন বারের প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রী। বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছছা জানাতে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। তাকে এক নজর দেখতে রাজধানী ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবন যাওয়ার পথে এলাকাগুলোর রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনতা তাকে হাত নেড়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তায় দলের নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের লেখাসমন্বিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড শোভা পায়। ‘বেগম খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’- এ ধরনের বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর পুরো রাজপথে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বেগম খালেদা জিয়া। গাড়ির ভেতরে তাঁকে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়।

সরকারী রক্তচক্ষু হুমকি ধামকিকে উপেক্ষা করে বীরের বেশে খালেদা জিয়া দেশে ফেরায় শেখ হাসিনার সরকার এবং তার পারিষদের মুখ চুপসে গেছে, বিশেষ করে যারা এদ্দিন ভরে তাচ্ছিল্য করছিলো- “পালিয়ে গেছেন, আর ফিরবেন না”! ১৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন যখন লন্ডন যান, এর একদিন পরই মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, “দেখেন খালেদা জিয়া আর ফিরে আসে কি না। আর নাও আসতে পারে।” হাসিনার এ বক্তব্যের পরই তার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সভায় বলেন যে, “মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া পালিয়ে গেছেন। তিনি আর দেশে ফিরবেন না।” এরপর থেকে ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাথে আরও আরও মন্ত্রিরা খালেদা জিয়াকে কটাক্ষ করে বিগত তিন মাস যাবত নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সেই বক্তব্যঅলাদের মুখে চুনকালি দিয়ে খালেদা জিয়া লাখ লাখ মানুষের অভ্যর্থনায় ফিরেছেন ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ খেতাব নিয়ে।

খালেদা জিয়ার বীরোচিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে সাধারন মানুষেরও খুব ঔৎসুক্য লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে ঐদিন মিডিয়া ছিল খালেদাময়। কোনো সরকার ছিলনা। লন্ডন ছাড়ান সময় তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে যখন চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দেন, “ ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করুন”…. তখনই মানুষ বুঝতে পারে, এবার শক্ত হয়ে ফিরছেন তিনি। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগে ফিরায় মানুষের কাছে মেসেজ পৌছে যায়- গ্রীন সিগনাল পেয়েই খালেদা জিয়া দ্রুত ফিরছেন। এরই আলামত মিলে আইজিপি শহীদুলের কথায়- ”তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সম্মানী ব্যক্তি, আমরা তাঁকে বিরক্ত করব না!”

অন্যদিকে, বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা এবং বিএনপির সুশৃঙ্খল বিশাল র‌্যালির খবর সংগ্রহ করেছে ঢাকাস্থ বিদেশী দূতাবাসগুলি। এর ওপর লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে তারা স্ব স্ব দেশের হেডকোয়ার্টারে। তাদেরও আগ্রহের বিষয়বস্তু ছিল এয়ারপোর্ট রোডের জনসমাবেশ। বিশেষকরে একটা লম্বা সময় পরে বিএনপি রাজপথে নেমে কি করে সেদিকে ছিল সবার চোখ। লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ শান্তিপূর্নভাবে শেষ হয়েছে, একটাও অঘটন ছাড়া। এ এক বিস্ময়- বিএনপি বলেই বোধ হয় তা সম্ভব!